টপ স্টোরি
‘দুই বড় দলের’ নেতৃত্ব পরিবর্তনে বিদেশ থেকে খেলা চলছে: বিবিসি বাংলাকে জয়
বাংলাদেশে বড় দুটি দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে একটি অগণতান্ত্রিক তৎপরতা রয়েছে–– এমন অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দলেরই নেতৃত্ব পরিবর্তনে ‘বিদেশ থেকে একটা খেলা চলছে’।
বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বড় দল বলতে তিনি বিএনপিকে বুঝিয়েছেন। তবে ‘খেলা’ বলতে আসলে কী বোঝাচ্ছেন এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত সে বিষয়ে তিনি পরিষ্কার করেননি।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, তার পরিবারের কেউ শেখ হাসিনার পরে দলের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, দলই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি গণতান্ত্রিক দল। ভবিষ্যত নেতৃত্ব কে হবে এটা দল নির্ধারণ করবে। আমি বা অন্য কেউ উপরে থেকে এটা নির্দেশ দিতে পারি না। এখন যে চেষ্টা করা হচ্ছে, তা কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে দুই দলেরই নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য বিদেশ থেকে একটা খেলা চলছে। এটি গণতান্ত্রিক নয়।’
‘রিফাইন্ড’ ধারণা নিয়ে সন্দেহ
৫ই অগাস্টের পর গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে বড় সংকটের মধ্যে পড়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের অধিকাংশ দায়িত্বশীল নেতা দেশে-বিদেশে আত্মগোপনে রয়েছেন অথবা কারাগারে আছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর রাজনীতিতে তার ভবিষ্যত ও আওয়ামী লীগের পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে নতুন কোনো নেতৃত্বের অধীনে ‘রিফাইন্ড বা পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ’ রাজনীতিতে সক্রিয় করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুগত নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ধারণার বিরোধ রয়েছে।
সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘এই রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ হচ্ছে সেই ওয়ান ইলেভেনের সময়ের বিষয়টা। তখনও রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ, বিএনপির আলোচনায় এসেছিল।’
তিনি আরও বলেন, দেশের বড় দুই দল––আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেবল নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক আছে, যা অন্য কোনো দলের নেই। ক্ষমতায় গেলে এই দুই দলের একটি আসবে।
এ বাস্তবতায় কাদের ইচ্ছায় রিফাইন্ড এই প্রশ্ন তুলে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘বিদেশি কয়েকটা দেশ, বিদেশি কয়েকটা শক্তি আর আমাদের সুশীল সমাজের কয়েকজন মিলে নির্ধারণ করবে যে কে প্রধানমন্ত্রী হলে রিফাইন্ড হবে, কে নেতা হলে রিফাইন্ড হবে।’
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘আমি রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ বা বিএনপিতে বিশ্বাস করি না। আমার বিশ্বাস গণতন্ত্রে, দল নির্ধারণ করবে নেতৃত্ব কে দেবে, জনগণ নির্ধারণ করবে দেশের নেতৃত্ব কে দেবে।’
আওয়ামী লীগের পরবর্তী নেতৃত্ব
বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। দেশের মধ্যে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিবেশ নেই। সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘দলের সভাপতি হচ্ছেন আমার মা। উনাকে তো দলের নেতাকর্মীরাই সমর্থন করে রেখেছেন। কেউ উনাকে ছেড়ে যায়নি। হ্যাঁ, তারা বিচ্ছিন্ন আছে, তবে তারা কিন্তু ঐক্যবদ্ধ আছে। তো দলের নেতৃত্ব এখনো ইনট্যাক্ট আছে। আমাদের দল সম্পূর্ণভাবে ইউনাইটেড আছে।’
বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। নেতাকর্মীরা অধিকাংশই এলাকায় থাকতে পারছেন না। মামলা, গ্রেপ্তার ও মব আতঙ্কের কারণে কোনো তৎপরতা নেই। সজীব ওয়াজেদ বিদেশ থেকে দলের হয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
দলের নেতৃত্বে আসবেন কি না বিবিসি বাংলার এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি সরাসরি রাজনীতি করতে চাইনি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ তার নিজের নির্ধারণ করবে, নেতাকর্মীরা নির্ধারণ করবে।’
সজীব ওয়াজেদ জানাচ্ছেন, শেখ হাসিনা তাকে নেতৃত্ব গ্রহণের বিষয়ে ভাবিয়েছেন, তবে দলের মধ্যে কেউ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চায় না। সবাই তার মাকে সমর্থন করে।
দলের বর্তমান পরিস্থিতি ও সংকট স্বীকার করে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তার ইচ্ছা নেতৃত্ব দেওয়া নয়, বরং তার ভাষায় দেশে গণতন্ত্র ও শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করা। তার অভিযোগ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হুমকির মুখে সেটি রক্ষা করতে হবে।
‘আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে এই দেড় বছরে যে নির্যাতন চলেছে, স্বাধীনতার চেতনা মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। এখনো চলছে বাংলাদেশে এটা মোকাবিলা করা। ভবিষ্যতে কী হবে সেটা বাংলাদেশের মানুষ নির্ধারণ করবে। দলে কী হবে এটা দলের নেতাকর্মী নির্ধারণ করবে। আমার এখন যেটা ইচ্ছা, যেটা দায়িত্ব স্বাধীনতার চেতনাকে আমার রক্ষা করতে হবে।’
বাংলাদেশে এবং আওয়ামী লীগে নেতৃত্বের সংকট কীভাবে পূরণ হবে সে বিষয়ে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘নেতৃত্বের সংকট পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। আমাদের যত নেতা আছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে জেলে ভরে রাখা হয়েছে, এখন দেড় বছর ধরে তারা জেলে। বাকিরা জেলের ভয়ে, দেশ ছেড়ে থাকতে হয়েছে।’
তবে তার দাবি, বাংলাদেশে এখনো আওয়ামী লীগের ওপর বিপুল সংখ্যক মানুষের সমর্থন রয়েছে এবং তারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী।
‘এখন যে আপনি নেতৃত্বের কথা বলছেন, এখন তো আওয়ামী লীগকে ব্যান করে রাখা হয়েছে। আমরা কোনো কর্মসূচি করতে পারি না, কোনো মিটিং করতে পারি না, নির্বাচন তো দূরের কথা। আওয়ামী লীগ বিরাট একটা দল। আওয়ামী লীগকে ঠেকায় রাখা যাবে না।’
শেখ হাসিনার পর আওয়ামী লীগে নেতৃত্বে কে আসবেন এই ব্যাপারে আওয়ামী লীগ পরিষ্কার কোনো ধারণা দেয়নি, গত ১৫-১৬ বছরেও এ বিষয়টি সামনে আনা হয়নি। এখনো এটি স্পষ্ট নয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী সেটিও দলীয় ফোরামে সেভাবে আলোচিত হয় না বলেই নেতাকর্মীরা বলছেন। এখনো আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ আছে বলে দলের একটা বড় অংশ মনে করছে।
সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটা গণতান্ত্রিক দল। আমরা তো একটা রাজত্ব না যে আমরা নির্ধারণ করে দেবো কে নেতৃত্বে আসবে কে আসবে না। একমাত্র কিন্তু আওয়ামী লীগ একমাত্র দল যে কখনো বলে নাই যে শেখ হাসিনার পর কে আসবে।’
‘এটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের সবথেকে বড় শক্তি। যে আমরা উপর থেকে বসানো কিছু আমরা মানি না। আমরা নিজেদের নেতাকর্মীদের উপর ভরসা করি, নিজেদের গণতন্ত্রের উপর ভরসা করি। ভবিষ্যতে কী হবে সেটা কেউ জানে না কে আসবে, কে নেতা হতে চাইবে। সেটা আমাদের দলের যখন কাউন্সিল হয় সেখানেই কিন্তু দলের নেতৃত্ব নির্বাচন হয়। আমরা কিন্তু নিজেদের দলের ভেতর নির্বাচন করি ব্যালট দিয়ে, সেখান থেকেই কিন্ত আমার মাকে দল প্রত্যেকবার সভাপিত নির্বাচিত করেছে।’
অতীতে শেখ হাসিনা তাকে নেতৃত্ব গ্রহণের বিষয়ে বিবেচনা করতে বলেছেন বলে দাবি করেন, সজীব ওয়াজেদ। তার ভাষায়, দলে কেউ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চায় না।
‘সবাই উনাকেই চায়। হ্যাঁ, অনেকেই আমাকে বলেছেন বার বার আসতে, আমার মাও আমাকে অনেকবার বলেছেন গত পাঁচ-দশ বছরে। তবে আমি চাই যে এটা আমরা সবাই চাই যে সময়মতো সেটা দল বেছে নেবে। দল যাকে চাবে, সে দাঁড়াবে, তারা দাঁড়াবে। দলের ভেতর নির্বাচন হবে, যে বেশি ভোট পাবে সে দলের সভাপতি হবে। সেটাই আমরা চাই।’
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক কালে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামটিও আলোচনায় আছে তৃণমূলে। শেখ রেহানা ও তার ছেলে মেয়েরাও দলের নেতাকর্মীদের ভাষায় ‘বঙ্গবন্ধু’র পরিবারের সদস্য।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বড় অংশের মূল্যায়নই হলো–– ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে মুজিব পরিবারের মধ্যেই থাকার সম্ভবনাই প্রবল।
শেখ পরিবারের সদস্যদের নেতৃত্বে আসার প্রসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘আমরা আমার পরিবার আমাদের সবাই ৩০ বছর ধরে বিদেশে। আমরা সবাই বিদেশে স্ট্যাবলিশ। আমরা সবাই পড়ালেখা করেছি। আমার পরিবারের পাঁচ ভাই-বোন আমাদের সবার মিনিমাম মাস্টার্স আছে। আমাদের বিদেশে আয় আছে, বিদেশে আমরা শান্তিতে থাকি। রাজনীতি করতে হলে রাজনীতির একটা ইচ্ছা থাকতে হয়। আমাদের পরিবারের টিউলিপের রাজনীতি করার ইচ্ছা ছিল সে রাজনীতি করেছে ইংল্যান্ডে, ব্রিটেনে। বাংলাদেশে করেনি কখনো।’
সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা কতটা এ প্রশ্নে সজীব ওয়াজেদের ভাষ্য–– এ নিয়ে আলোচনা আছে, তবে বাস্তবতা ভিন্ন।
‘আমার বোনকে নিয়ে যে চিন্তা করা হয়। আমার বোনের আসলে রাজনীতিতে সেরকম কোনো ইচ্ছা নেই, আমি যতদূর জানি। এটা অনেকেই ভাবছে তবে এই ধারণাটা ভুল।’
৫ই অগাস্টের পর পরিবারের মধ্য থেকে দলীয় নেতৃত্বের বিষয়টি নিজেদের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলেও উল্লেখ জানান সজীব ওয়াজেদ। তার দাবি, পরিবারের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বলেই সবাইকে মামলা দিয়ে সাজা দেওয়া হচ্ছে যাতে নির্বাচনে অযোগ্য করা যায়।
‘তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করছে যাতে আমাদেরকে কনভিক্ট করতে পারে, যাতে আমরা নির্বাচন করতে না পারি। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধু এইটা–– আমরা কেউ যাতে নির্বাচন করতে না পারি।’
প্রসঙ্গত, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে করা তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও সজীব ওয়াজেদ জয়কে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।
বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসন্ন নির্বাচনে একটা বড় সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে যে আওয়ামী লীগকে বাইরে রাখার।
নির্বাচনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের অবস্থান কী–– এ প্রশ্নে সজীব ওয়াজেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের অবস্থানটা স্পষ্ট।
‘আমরা একটা এইরকম সাজানো নির্বাচন, দেশের অর্ধেক ভোটারদের বাদ দিয়ে- আমরা হতে দেবো না। আমরা আন্দোলন করবো। আমাদের তারা আর কোনো পথ ছাড়ে নাই। আপনি যখন কাউকে সবদিক থেকে বেধে দেবেন তখনতো তার আন্দোলন ছাড়া কোনো পথ থাকে না।’
জুলাই আন্দোলনে হতাহত নিয়ে সমালোচনা হয় যে এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের অনুশোচনা নেই। জুলাই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আওয়ামী লীগ কি জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে? এ প্রশ্নে সজীব ওয়াজেদ বলেন-
‘ক্ষমা চাইলেই কি তারা সবকিছু ছেড়ে দেবে? তবে হ্যাঁ, গত জুলাইয়ে আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের সরকারের ভুল হয়েছে। সেটা আমরা সবসময় বলে এসেছি। শুরুর দিকে আন্দোলনে ভুল হয়েছে। পরেও ভুল হয়েছে। সেটারতো স্পষ্ট তদন্ত করতে হবে।’
‘আমার মা তখন প্রধানমন্ত্রী তিনি ৫ই অগাস্টের আগে একটা জুডিশিয়াল কমিশন করেছিলেন সব হত্যার তদন্ত করতে। কারণ হত্যা তো শুধু ছাত্র এবং সাধারণ জনতার হয় নাই, পুলিশের হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। সেটারতো স্পষ্ট একটা তদন্ত করতে হবে যে সেটার জন্য কে দায়ী।’
মি. ওয়াজেদের দাবি , আওয়ামী লীগ সরকার জুলাই আন্দোলনের সময় অনেক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল। তিনি বলছেন,
‘হ্যাঁ ভুল হয়েছে। তবে সেখান থেকে যদি বিচার করতে হয় ক্ষমা চাইতে হয় ৫ই অগাস্টের পর থেকে ১৫ই অগাস্ট পর্যন্ত যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে তার জন্যতো ইউনূস সরকার ইনডেমনিটি দিয়েছে। আপনি এক হাতে বলছেন যে আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাইতে হবে, আবার হাতে বলছেন যে যারা পুলিশ হত্যা করেছে- আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী হত্যা করেছে তাদের খুন সব মাফ। সেটা কীভাবে হয়। সেটাই যদি হয় তাহলে আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়ার কী আছে?‘
টপ স্টোরি
চিকিৎসকদের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেলেই খালেদা জিয়াকে নেওয়া হবে লন্ডনে
সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার কথা ভেবেছে বিএনপি। এ ব্যাপারে তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের গ্রিন সিগন্যাল পেলেই দলীয় চেয়ারপারসনকে নিয়ে যাওয়া হবে লন্ডনে।
তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর পরিবার ও একাধিক দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে লন্ডনের যে হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়েছিল, সেখানেই আবার তাকে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেই পরিবারের সদস্যরা তাকে লন্ডনে নিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেয়া এক পোস্টে মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘লন্ডনের যে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের অধীনে চার মাস থেকে তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন, তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছেন তারেক রহমান ও তার স্ত্রী।’
দেশে যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করছেন, তাদের গ্রিন সিগনাল বা অনুমতি পেলেই তাকে দেশের বাইরে নেওয়া হবে। এরই মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার জন্য কাতার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি লন্ডনে গিয়ে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। সেখানে চিকিৎসা ও বিশ্রামসহ ১১৭ দিন কাটিয়ে ৬ মে দেশে ফেরেন। গত ২৩ নভেম্বর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে এভারকেয়ারে যান তিনি। তারপর থেকেই তার অবস্থার অবনতি।
টপ স্টোরি
লুটপাটকারীদের শাস্তি দিন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বেকারত্ব বাড়াবেন না: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে যারা লুটপাটে জড়িত তাদের শাস্তি দিন। কিন্তু তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বেকারত্ব তৈরি করা কোনো সমাধান নয়।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে সব সময় দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে ভূমিকা রেখেছে। ওপেন ইকোনমি যুগের সূচনা করেছেন জিয়াউর রহমান। ক্ষমতায় এসে বিএনপি প্রতিবারই অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে কাজ করেছে।
তিনি দাবি করেন, বিএনপি অর্থনীতি ধ্বংস করেছে- এ কথা কেউ বলতে পারেনি।
ব্যবসায়ীদের প্রতি আস্থা রেখে নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করা দরকার। তাদের বিশ্বাস করতে হবে। লুটপাটে যারা জড়িত তাদের শাস্তি দিন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কেনো বেকারত্ব তৈরি করছি? এগুলো ভাবতে হবে।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, শুধু অর্থনৈতিক পথরেখা নয়, রাজনৈতিক পথরেখাও তৈরি করতে হবে। সংস্কারের যেসব বিষয়ে বিএনপি সই করেছে, তার বহু আগেই দলটি এসব প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল।
তিনি বলেন, বিএনপি শুধু ‘নতুন বাংলাদেশ’ নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়। যেখানে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।
টপ স্টোরি
মায়ের শারীরিক অবস্থায় গভীর উদ্বেগ, দেশে ফেরার বিষয়ে যা জানালেন তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার রোগমুক্তির জন্য দেশজুড়ে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ দোয়া ও প্রার্থনা অব্যাহত রেখেছেন।
সরকারপ্রধানসহ প্রধান উপদেষ্টা খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং তার চিকিৎসায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরাও পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে তার চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি কয়েকটি বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
দেশনেত্রীর সুস্থতা কামনায় সবাই যে আন্তরিকভাবে দোয়া ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন, তার জন্য জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
এ অবস্থায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, সংকটময় এই সময়ে মায়ের কাছে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তারও রয়েছে। তবে নিজের দেশে ফেরা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার একক নিয়ন্ত্রণে নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পাঠকদের জন্য তারেক রহমানের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল…
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তাঁর রোগমুক্তির জন্য দল মত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যহত রেখেছেন।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মত তাঁদের উচ্চ মানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্খা ব্যক্ত করা হয়েছে।
সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সকলের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
একই সাথে জিয়া পরিবার বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সকলের প্রতি দোয়া অব্যহত রাখার ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।
এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোন সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।
স্পর্শ কাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।
-
জাতীয়1 week agoফাইলের নিচে চাপা পড়ে পাঁচ বছর—ঝুঁকির ওপর দাঁড়িয়ে গাজীখালী ব্রীজ, হাজারো মানুষের জীবন আজ মৃত্যুফাঁদে!
-
আন্তর্জাতিক4 days agoকারাগারে ইমরান খানকে হত্যার খবর, দেখা করতে চেয়ে হামলার শিকার ৩ বোন
-
টপ স্টোরি5 days agoবিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আদালত অবমাননার অভিযোগ
-
জাতীয়3 weeks agoকৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল ডিআরইউ
-
জাতীয়3 weeks agoজাহানারার অভিযোগ নিয়ে যা বললেন ক্রীড়া উপদেষ্টা
-
আন্তর্জাতিক1 week agoট্রাম্প-মামদানির সাক্ষাৎ নিয়ে শশী থারুরের পোস্ট, ‘রহস্যময়’ বলছে বিজেপি
-
আন্তর্জাতিক3 weeks agoআবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল উত্তর কোরিয়া
-
টপ স্টোরি3 weeks agoসরাসরি চুক্তিতে ঢাকা ক্যাপিটালসে সাইফ


