Connect with us

ইসলাম ও জীবন

কাজে সফল হওয়ার দোয়া ও আমল

কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি দক্ষ সবাই হতে চান। কাজে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্নভাবে আমরা অনেক চেষ্টা করি।

সময় ও চাহিদামতো চাকরি খুঁজে পাওয়ার জন্যও দরকার কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা। জাগতিক চেষ্টা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি ইসলাম আমাদের কিছু আমল শিক্ষা দিয়েছে; যেগুলো নিয়মিত পালনের মাধ্যমে আল্লাহর ইচ্ছায় কাজে দক্ষতা বাড়তে পারে।

উপমহাদেশের বিখ্যাত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের ওয়েবসাইটে জনৈক ব্যক্তি নিজের কাজের দক্ষতা বাড়াতে কি দোয়া পড়ব? এমন প্রশ্ন করে একটি চিঠি লিখেন।

চিঠিতে প্রশ্নকারী বলেন— ‘নিজের কাজ বা কর্মের মাঝে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কিছু দোয়া বলে দিন। যাতে করে দেমাগ খুলে যায় ও সে কাজ খুব সহজে বুঝে আসে।’

চিঠির উত্তরে দেওবন্দের ওয়েবসাইট থেকে বলা হয়, ‘প্রতিদিন یَا مُغْنِیْ (ইয়া মুগনিউ) ১১০০ বার (এক হাজার ১০০ বার) পড়া যেতে পারে।

এটি ছাড়াও یَا فَتَّاح (ইয়া ফাত্তাহু) এই দোয়াটি ১০১ বার (১০১ বার) পড়া যেতে পারে। এভাবে الم نشرح (সুরা আলাম নাশরাহ) ও পড়তে পারেন।

আর বিশেষ করে প্রত্যেক নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা অনেক বড় ফজিলতের বিষয়। এর মাধ্যমে আশা করা যায়, আল্লাহতায়ালা কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে দেবেন। আপনি যে কাজই করতে যাবেন, সেই কাজ সহজ করে দেবেন— ইনশাআল্লাহ।

নিয়মিত এসব আমল অব্যাহত রাখলে পাঠকারী খুব সহজেই কাজের ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া অনুধাবন করতে পারবেন। সব কিছুই আল্লাহতায়ালা তার অন্তরে ঢেলে দেবেন বলে আশা করা যায় ইনশাআল্লাহ।

Continue Reading

ইসলাম ও জীবন

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো এ বছরের বিশ্ব ইজতেমা

Published

on

By

নিজস্ব প্রতিবেদক, জাগো টুডে //

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে মাওলানা সাদ অনুসারীদের অংশগ্রহণে হেদায়েতি বয়ানের পর আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো এ বছরের বিশ্ব ইজতেমা।রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২.৩৮ মিনিটে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ। মোনাজাত শেষ হয় ১টা ৭ মিনিটে।

এ সময় ‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে ইজতেমা ময়দানে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। মানুষের কান্নার সুরে প্রকম্পিত হয় তুরাগ তীর। বিভিন্ন বয়সী ও পেশার মুসল্লিরা মোনাজাতে অংশ নিয়ে আল্লাহর দরবারে মনের আকুতি জানান।এর আগে ফজরের নামাজের পর হেদায়েতি বয়ান করেন ভারতের মাওলানা মোরসালিন, যার বাংলা তরজমা করেন মাওলানা ওসামা ইসলাম। আখেরি মোনাজাতের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে হেদায়েতের কথা বলেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ, যার তরজমা করেন মাওলানা মুনির বিন ইউসুফ।

আখেরি মোনাজাত নির্বিঘ্ন করতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। এবারের ইজতেমায় ৪৯টি দেশের প্রায় দেড় হাজার বিদেশি মুসল্লি অংশ নেন। আখেরি মোনাজাত শেষে তারা দাওয়াতি সফরে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়বেন। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রেলওয়ে বিভাগ আটটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে

Continue Reading

ইসলাম ও জীবন

আল্লাহ দয়ালু হলে জাহান্নাম বানালেন কেন?

Published

on

By

নিজস্ব প্রতিবেদক, জাগো টুডে //

ইবরাহীমের (‘আলাইহিসসালাম) অনুসারী দাবীদারদের অধিকাংশই (অর্থাৎ মুসলিম, ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানগণ) পরকাল এবং জান্নাত ও জাহান্নামের অস্তিত্বে বিশ্বাসী। পুনর্জন্মে বিশ্বাসীরা বিশ্বাস রাখে যে মৃত মানুষ তার কর্মের ভিত্তিতে ভালো বা খারাপ জীবন নিয়ে পুনর্জন্ম লাভ করে। এর বিপরীতে ইবরাহীমের অনুসারীগণ মানেন যে জীবন মাত্র দুটিই। একটি মায়ের গর্ভ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, আরেকটি মৃত্যুর পর আখিরাতে পুনরুত্থান।

তো সকল ধর্মের অনুসারীরাই পুরষ্কার ও শাস্তির ধারণায় বিশ্বাসী। কিন্তু সবার ধারণার প্রকৃতি ঠিক একই রকমের নয়। ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান ধর্মের মতো ইসলামেও আল্লাহকে ন্যায়বিচারক বলে বিশ্বাস করা হয়। তিনি দ্রুত পুরষ্কার দেন এবং শাস্তি দিতে দেরী করেন। কিন্তু তিনি যদি প্রেমময় সত্ত্বাই হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি শাস্তি দেন কেন?

এ আলোচনা গড়ায় আমরা আসলেই আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করি কিনা সেই প্রশ্নে গিয়ে। আমরা যদি সত্যিই তাঁর অস্তিত্ব এবং পরিপূর্ণ ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করি, তাহলে মানতেই হবে যে তিনি আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করবেন। এটি সম্ভব শুধুমাত্র তাঁর নবীদের কাছে পাঠানো ওয়াহীর মাধ্যমে যা তাঁরা স্বজাতির কাছে পৌঁছে দেন। প্রতিটি সংরক্ষিত ঐশী গ্রন্থই একজন দয়ালু স্রষ্টার নিদর্শন বহন করে। বিভিন্নভাবে আল্লাহ আমাদের সঠিক পথের ব্যাপারে জানিয়েছেন যাতে মানুষ ভুল না করে। কাজেই মুমিনের জন্য আল্লাহর ভয় হলো তার ঈমানকে মজবুত করার অংশ। আল্লাহকে বিশ্বাস করতে হলে তাঁর প্রতি ভালোবাসা, ভয় এবং আশা থাকতেই হবে।

ভালোবাসা এবং আশার আলোচনা অত্যন্ত ব্যাপক। এখানে যেহেতু আল্লাহর শাস্তি ও ন্যায়বিচার নিয়ে কথা হচ্ছে, তাই আমরা ভয়ের অংশটি নিয়েই আলোচনা করবো। কারণ এটিই হলো জাহান্নাম থেকে মুমিনের মুক্তির হাতিয়ার।

পুরষ্কার, শাস্তি এবং এদের যে কোনো একটি অর্জনের উপায় সম্পর্কে একজন মুমিন জানে। জানে বলেই সে আল্লাহর শাস্তি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে তাঁর সন্তুষ্টির নিকটবর্তী হতে চায়। এভাবেই তার আত্মিক পরিশুদ্ধি সম্পূর্ণ হয়। সে আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহকে সম্মান করে, সচেষ্ট থাকে এবং সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়ে আল্লাহর রহমতের খোঁজ করে। কারণ এটিই তাকে বিচার দিবসের ভয়াবহ অবস্থা এবং জাহান্নামের চিরস্থায়ী আযাব থেকে রক্ষা করবে।

“যারা স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে, রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে। তাদের জন্য তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের প্রতিপালকের কাছে। তাদের কোনো আশংকা নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।” [সূরা বাকারাহ (২):২৭৪]

কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, যে মুমিনের অন্তরে তাকওয়া আছে এবং আল্লাহর যাত ও সিফাত নিয়ে যে চিন্তাভাবনা করে, তার অন্তরে অবশ্যই আল্লাহর বড়ত্বের অনুভুতি জাগ্রত হবে। তাঁর অসীম ক্ষমতা মুমিনের হৃদয়ে ভয়ের সৃষ্টি করবে। ফলে সে ইখলাসের সহিত নিজেকে আল্লাহর অসন্তুষ্টি উদ্রেককারী কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখবে। ফলে আল্লাহ তাকে পুরষ্কৃত করবেন দুনিয়ায় শান্তি এবং আখিরাতে জান্নাত দান করার মাধ্যমে।

“যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে পেশ হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত।” [সূরা আর-রহমান (৫৫):৪৬]

তারপরও প্রশ্ন আসতে পারে যে কীভাবে কেউ জানবে কীসে আল্লাহ খুশি হন আর কীসে নারাজ হন। উত্তর সোজা। আল্লাহ কোরআনে যা বলেছেন তার ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করার মাধ্যমে।

“আল্লাহর বান্দাদের মাঝে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীল।” [সূরা ফাতির (৩৫):২৮]

এমন এক মুমিন অবশ্যই জানবে যে আল্লাহর ন্যায়বিচারের কোনো তুলনা হয় না। আল্লাহ যা কিছুর ব্যাপারে ভয় দেখিয়েছেন, তার সবকিছুতে সে বিশ্বাস করে।

“এবং (মুমিন তো তারাই) যারা প্রতিফল দিবসকে সত্য বলে বিশ্বাস করে এবং তাদের পালনকর্তার শাস্তি সম্পর্কে ভীত-কম্পিত। নিশ্চয় তাদের পালনকর্তার শাস্তি থেকে নিঃশঙ্ক থাকা যায় না।” [সূরা আল-মাআরিজ (৭০):২৬-২৮]

এমনটাই রবের ন্যায়বিচার। মুমিন কেবল তাঁর প্রতিই আশা ও ভয় রাখে।

“…তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয় ও আশা সহকারে…।” [সূরা সাজদাহ (৩২):১৬]

এ প্রসঙ্গে নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “মুমিনের হৃদয় যখন ভয় ও আশায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়, আল্লাহ তখন তার আশা পূরণ করেন এবং সে যার ভয় করে তা থেকে তাকে রক্ষা করেন।” (ইবনে মাজাহ)

আখিরাত অস্বীকারকারীরা বিচার দিবসে জান্নাত ও জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করলে তাদের অবস্থা কেমন হবে?

“…তারাই সত্যিকার ক্ষতিগ্রস্ত যারা তাদের নিজেদের ও পরিবারের ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জেনে রাখো, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি। তাদের জন্য উপর ও নিচ হতে আগুনের জ্বালা থাকবে। এ শাস্তি দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন যে, হে আমার বান্দারা! আমাকে ভয় কর।” [সূরা আয-যুমার (৩৯):১৫-১৬]

Continue Reading

ইসলাম ও জীবন

কোরআনের আলোকে সত্যের মাপকাঠি কারা?

Published

on

By

নিজস্ব প্রতিবেদক, জাগো টুডে //

সাহাবিদের সম্পর্কে সঠিক আকিদা ও দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানের অপরিহার্য অংশ। তাদের সম্মান রক্ষা করা ও তাদের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। এই আলোচনায় কোরআন ও হাদিসের আলোকে সাহাবায়ে কেরামের ঈমানকে সত্যের মানদণ্ড হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা আমাদের সঠিক পথের দিশা দিতে সহায়তা করবে।

যারা ঈমানের অবস্থায় নবীজিকে দেখেছেন তারাই সাহাবি। আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সর্বসম্মত আকিদা হলো, الصحابة كلهم عدول অর্থ: ‘সমস্ত সাহাবা আদেল।’ আকিদার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল মুসায়ারার ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল মুসামারায় বর্ণনা আছে, اعتقاد اهل السنة والجماعة تزكية جميع الصحابة رضى الله عنهم وجوبا باثبات العدالة لكل منهم والكف عن الطعن فيهم والثناء عليهم- অর্থাৎ, আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা হলো, সাহাবাগণ আদেল। তাদের দোষচর্চা থেকে বিরত থাকা এবং গুণকীর্তন করা আমাদের জন্য ওয়াজিব। সাহাবায়ে কেরাম আদেল বা মিয়ারে হক, এতে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত কারো দ্বিমত নেই।

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে অনেকগুলো আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় তাদের ইমানকে আমাদের ইমান মাপার অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রব্বুল আলামিন বলেন, و إذا قيل لهم امنوا كما امن الناس قالوا أنؤمن كما امن السفهاء ألا إنهم هم السفهاء و لكن لا يعلمون অর্থ: যখন তাদেরকে বলা হলো, তোমরা ইমান আনয়ন কর মানুষেরা যেভাবে ইমান এনেছে, তখন তারা বলল, আমরা কী বোকাদের মতো ইমান গ্রহণ করব? রব বললেন, মনে রেখো-প্রকৃত অর্থে তারাই বোকা (সুরা বাক্বারা : ১৩)।

উপরের আয়াতে ‘নাস’ শব্দের মাধ্যমে সাহাবিগণকে বোঝানো হয়েছে। কেননা, কোরআন নাজিলের যুগে তারাই ঈমান এনেছিলেন। তাই কাফেরদের সামনে সাহাবায়ে কেরামের ঈমানকে রূপরেখা স্বরূপ উপস্থাপন করা হয়েছে। অর্থাৎ ‘তোমরা সাহাবাদের ঈমানের মতো ঈমান গ্রহণ কর। কারণ, সাহাবাদের ঈমান হলো ঈমানের মাপকাঠি।’

অন্যত্র আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন,

فإن امنوا بمثل ما امنتم به فقد اهتدوا و إن تولوا فإنما هم في شقاق অর্থ: যদি তারা ঈমান গ্রহণ করে যে-রকম তোমরা ঈমান আনয়ন করেছো, তবেই তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তারা হঠকারিতার মধ্যে রয়েছে (সুরা বাক্বারা : ১৩৭)।

এ আয়াতে ‘তোমরা ইমান আনয়ন করেছো বাক্যে’ সাহাবায়ে কেরামকে মুখাতব করা হয়েছে। তাদের ইমানকে ইমানের আদর্শ বা মাপকাঠি বলে ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মহান আল্লাহর স্বীকৃত ইমান হলো সাহাবায়ে কেরামের ইমান। সুতরাং সকল সাহাবাগণ সত্যের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবেন।

সুরা আনফালের বর্ণনা, أُولَٰئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا ۚ لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ অর্থ: তারাই হলো সত্যিকার ঈমানদার! তাদের জন্য রয়েছে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক রুজি। উপরিউক্ত আলোচনা প্রমাণ করে, পবিত্র কোরআন সত্য ও দীনের মানদণ্ড হিসেবে সাহাবাদেরকে উপস্থাপন করেছে।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

ان بنى اسرائيل تفرقت على ثنتين وسبعين ملة وستفترق أمتي على ثلث وسبعين ملة كلهم في النار الا واحدة – قالوا من هم يا رسول الله قال : ما انا عليه و في رواية قالوا من هم يا رسول الله قال أهل السنة والجماعة فقيل و من اهل السنة والجماعة فقال ما انا عليه واصحا بي অর্থ: বনি ইসরাইল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, তাদের সকলেই হবে জাহান্নামি কেবল মাত্র একটি দল ছাড়া। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রসুল! সেই মুক্তিপ্রাপ্ত দল কোনটি? নবিজি উত্তর দিলেন, আমি এবং আমার সাহাবায়ে কেরামের তরিকা ও আদর্শের ওপর যারা থাকবে তারাই হবে নাজাতপ্রাপ্ত। অন্য বর্ণনামতে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, নাজাতপ্রাপ্ত দল হলো আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাত। পুনরায় প্রশ্ন করা হলো, আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাত কারা? নবিজি সা. উত্তরে বললেন, আমার ও আমার সাহাবিদের তরিকা ও আদর্শ যারা মেনে চলবে তারা।

অন্য হাদিসে উমর রা. বর্ণনা করেন, আমি রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,

سألت ربي عن اختلاف أصحابي من بعدي ، فأوحى إلي : يا محمد ! إن أصحابك عندي بمنزلة النجوم في السماء ، بعضها أقوى من بعض ، ولكل نور ، فمن أخذ بشيء مما هم عليه من اختلافهم فهو عندي على هدى অর্থ: আমার পরে আমার সাহাবাদের মতভেদ সম্পর্কে আমি আল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম। আমাকে ওহির দ্বারা অবহিত করা হয় যে, হে মুহাম্মদ! আপনার সাহাবাগণ আমার নিকট আকাশের তারকারাজির মতো। তাদের কেউ আবার অন্য থেকে অধিক দীপ্তিমান। তবে প্রত্যেকের নিকট হেদায়াতের আলো আছে, সুতরাং তাঁদের মধ্যে পরস্পর বিরোধমূলক যেকোনো বিষয় কেউ গ্রহণ করুক না কেনো, সে আমার নিকট হেদায়াতপ্রাপ্ত বলে বিবেচিত হবে।

এভাবে কোরআন-হাদিসের অসংখ্য আয়াত ও হাদিস দ্বারা সাহাবায়ে কেরাম মিয়ারে হক হিসেবে প্রমাণিত। তারা যেভাবে দীনকে বুঝেছেন, যেভাবে দীনকে পালন করেছেন, সেভাবেই উম্মতে মুসলিমা কিয়ামত পর্যন্ত পালন করে যাবে।

এছাড়া দুনিয়ার সকল পণ্ডিত সালাফ-খালাফ, উলামা-ফুকাহাদের ঐক্যবদ্ধ মতামত এটাই যে, নবিজির সহচরগণ আদেল। তারা দীনের সঠিক দিকনির্দেশক। ইমাম ইবনে হুমাম রহ. বলেন, আহলুস সুন্নাত ওয়াল-জামা’আতের আকিদা হলো, সকল সাহাবায়ে কেরামকে কে পূত ও পবিত্র মনে করা, তাঁদের ওপর আপত্তি উত্থাপন থেকে বেঁচে থাকা এবং তাদের প্রশংসা করা ওয়াজিব (মুসায়েরা: পৃ. ১৩২)

ইমাম আবু হানিফা রহ.বলেন, مقام احدهم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ساعة واحدة، خير من عمل احدنا جميع عمره،وان طال অর্থ: নবীজির সঙ্গে একজন সাহাবির এক মুহূর্তের অবস্থান আমাদের আজীবনের আমলের চেয়েও উত্তম, আমাদের জীবন যতই দীর্ঘ হোক না কেনো (মানাকিবু আবি হানিফা : ৭৬)।

সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত হলো-

ونحب أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا نفرط في حب أحد منهم، ولا نتبرأ من أحد منهم، ونبغض من يبغضهم وبغير الحق يذكرهم، ولا نذكرهم إلا بخير، وحبهم دين وإيمان وإحسان، وبغضهم كفر ونفاق وطغيان] . (وَمَنْ أَحْسَنَ الْقَوْلَ فِي أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَزْوَاجِهِ الطَّاهِرَاتِ مِنْ كُلِّ دَنَسٍ، وَذُرِّيَّاتِهِ الْمُقَدَّسِينَ مِنْ كُلِّ رِجْسٍ؛ فَقَدْ بَرِئَ مِنَ النِّفَاقِ.) অর্থ: আমরা নবীয়ে আহমাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবিদেরকে ভালোবাসি। তাদের কারো প্রতি ভালোবাসায় সীমালঙ্ঘন করি না এবং কারো প্রতি সম্পর্কহীনতা উচ্চারণ করি না। যারা সাহাবিদের প্রতি বিদ্বেষ করে বা ঘৃণা করে বা উত্তম পদ্ধতি ছাড়া তাদের আলোচনা করে, আমরা তাদেরকে ঘৃণা করি। উত্তম পদ্ধতি ছাড়া আমরা তাদের আলোচনা করি না। সাহাবাদেরকে ভালোবাসা ঈমান ও হৃদয়ের পবিত্রতা। তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা কুফর, নিফাক ও নাফরমানি। যে ব্যক্তি নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবি, সহধর্মিণী ও বংশধরগণ সম্পর্কে উত্তম মন্তব্য করল, সে নিফাক থেকে মুক্ত হলো।

সুতরাং সাহাবিগণের সমালোচনাকারীদের সম্পর্কে আমাদের আকাবিরদের স্পষ্ট বক্তব্য, ১.সাহাবায়ে কেরামকে (রা.) গালি দেয়া, তাদের সম্পর্কে অশোভনীয় ভাষা ব্যবহার, তাদের সমালোচনা, তাদের ব্যাপারে কুৎসা রটনা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম। একজাতীয় কাজের কারণে একজন মুসলিম আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত থেকে বের হয়ে পথভ্রষ্ট ফেরকার অন্তর্ভুক্ত হয়।

২. সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা, তাদের প্রতি কুধারণা ও তাদের কুৎসা রটনা করা বিধর্মী যিন্দিকদের কাজ। ৩. সাহাবায়ে কেরাম রা. সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করা ওয়াজিব। ৪. সর্বদা সাহাবায়ে কেরাম রা. এর ভালো গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করা উচিত। ৫. সব সাহাবিই রসুল সা. এর প্রিয় ছিলেন। ৬. সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর সমালোচনাকারীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা জরুরি।

৭. অনেক সময় সাহাবিদেরকে গালাগালি করার কারণে মানুষ ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। ৮. সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের শর্ত ও চাহিদা, তাদের প্রতি বিদ্বেষ বে-ইমানির আলামত।

সাহাবায়ে কেরাম ইসলামের সত্য পথের নির্ভরযোগ্য দৃষ্টান্ত। তাদের ঈমান, চরিত্র ও জীবনাদর্শ মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। পবিত্র কুরআন ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে তাদের মর্যাদা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে, তারা সত্য ও হকের মানদণ্ড।

সাহাবিদের অনুসরণ ছাড়া শুদ্ধ বিশ্বাস ও সঠিক ইসলামি অনুশীলন সম্ভব নয়। তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন, তাদের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও তাদের আদর্শের অনুসরণ আমাদের ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। সাহাবিদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা বা তাদের সম্পর্কে কুধারণা রাখা শুধু ধর্মীয় বিচ্যুতি নয়, বরং এটি ঈমানের জন্যও হুমকিস্বরূপ।

অতএব, আমাদের উচিত সাহাবায়ে কেরামের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা, তাদের জীবনাদর্শ অনুসরণ করা আর তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা। তাদের পথে চলাই মুক্তির পথ, আর এই পথেই রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা।

Continue Reading
Advertisement

সর্বশেষ

টপ স্টোরি1 day ago

চিকিৎসকদের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেলেই খালেদা জিয়াকে নেওয়া হবে লন্ডনে

  সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার কথা ভেবেছে বিএনপি। এ ব্যাপারে তার চিকিৎসার দায়িত্বে...

টপ স্টোরি2 days ago

লুটপাটকারীদের শাস্তি দিন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বেকারত্ব বাড়াবেন না: মির্জা ফখরুল

  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে যারা লুটপাটে জড়িত তাদের শাস্তি দিন। কিন্তু তাদের প্রতিষ্ঠান...

টপ স্টোরি2 days ago

মায়ের শারীরিক অবস্থায় গভীর উদ্বেগ, দেশে ফেরার বিষয়ে যা জানালেন তারেক রহমান

  বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার...

আন্তর্জাতিক2 days ago

জেল থেকেই নেতৃত্ব দিতে চান ইমরান, দাবি সানাউল্লাহর

  পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ বলেছেন,  পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান কারাগার থেকেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে...

আন্তর্জাতিক2 days ago

যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানের নৌবাহিনী

  ইরানের নৌবাহিনী যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ও হুমকির জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর...

Advertisement

আরও পড়ুন

টপ স্টোরি2 days ago

‘দুই বড় দলের’ নেতৃত্ব পরিবর্তনে বিদেশ থেকে খেলা চলছে: বিবিসি বাংলাকে জয়

  বাংলাদেশে বড় দুটি দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে একটি অগণতান্ত্রিক তৎপরতা রয়েছে–– এমন অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে...

টপ স্টোরি2 days ago

মির্জা ফখরুল ও ফরহাদ মজহারকে ক্ষমা চাইতে বলল হেফাজত

  বাউলদের পক্ষে ‘অবস্থান’ নেওয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহারকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান...

টপ স্টোরি2 days ago

‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটময়’

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর...

Trending

সম্পাদক : মো. ওয়াশিকুর রহমান | নির্বাহী সম্পাদক : তপন চৌধুরী
স্বত্ব © ২০২৫ জাগো টুডে
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed & Maintained by Team MediaTix