জাতীয়
বিএনসিসি সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশের তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও জাতীয় উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) কার্যক্রমের গুণগত মান ও অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘বিএনসিসির মাধ্যমে জাতীয় রূপান্তর’ শীর্ষক উপস্থাপনার পরে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। উপস্থাপনাটি পেশ করেন বিএনসিসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সঈদ আল মসউদ।
সভায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সঈদ আল মসউদ বিএনসিসির বর্তমান কাঠামো, তরুণ কর্মশক্তি উন্নয়ন কাঠামো, জাতীয় যুব কর্মপরিকল্পনা, জনবল নিয়োগ, বাজেট, চ্যালেঞ্জ এবং সুপারিশের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বর্তমানে বিএনসিসির আওতায় ৫৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এর শাখা স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আল মসউদ বলেন, ‘বিএনসিসিতে যোগদানের বয়সসীমা ১৭ থেকে ১৮ বছর। ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ লাখ দক্ষ ক্যাডেট প্রশিক্ষণ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিএনসিসির দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে বলেন, গুণগত প্রশিক্ষণ ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই বিএনসিসির পক্ষে, কিন্তু আমাদের নজর দিতে হবে গুণগত মানে—বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য প্রশিক্ষক থাকতে হবে। এ বিষয়ে আমাদের মনোযোগী হতে হবে এবং ভবিষ্যতমুখী ভাবনা নিতে হবে।’
অধ্যাপক ইউনুস আত্মমর্যাদা, শৃঙ্খলা ও অন্তর্ভুক্তিকে বিএনসিসির মূল মূল্যবোধ হিসেবে গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনসিসি মানে আত্মমর্যাদা ও শৃঙ্খলা। ক্যাডেটদের জন্য এমন একটি সনদপ্রদান ব্যবস্থা থাকতে হবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে। পাশাপাশি, তাদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগও তৈরি করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনসিসি শুধু ছেলেদের জন্য নয়; মেয়েদের সমান অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।’
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনসিসিকে আরও কার্যকর ও কর্মমুখী করে তুলতে হবে। ‘কোন পরিস্থিতিতে আমরা এই স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে লাগাতে পারি, তা বিবেচনা করতে হবে।’
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান সাম্প্রতিক জাতীয় ঘটনাগুলোতে বিএনসিসির ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘যোগ্য প্রশিক্ষক নিয়োগকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিএনসিসি ক্যাডেটরা রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছিল—এটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।’
প্রধান উপদেষ্টা বিএনসিসি নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকার নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে তরুণদের উন্নয়নকে জাতীয় রূপান্তরের মূলধারায় একীভূত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আন্তর্জাতিক
রাজধানী ঢাকায় ফের ভূমিকম্প অনুভূত
পাঁচদিনের মাথায় ফের ঢাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে এ কম্পন অনুভূত হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, রাজধানীতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস পর্যবেক্ষণ করে মাত্রা জানাচ্ছে।
এদিকে ভারতের জাতীয় ভূকম্পবিদ্যা কেন্দ্র (এনসিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার ভেতরে।
গত ২২ ও ২৩ নভেম্বর দুইদিনের ব্যবধানে ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকায় চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এদের মধ্যে তিনটির উৎপত্তিস্থলই ছিল নরসিংদী এবং একটির ঢাকা।এর মধ্যে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) একটি শনিবার (২২ নভেম্বর) তিনটি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
জাতীয়
হাসিনার লকারে ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার
ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকারে ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। আদালতের অনুমতিতে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যৌথ টিম লকার দুটি খুলে এসব স্বর্ণালংকার জব্দ করে।
উল্লেখ্য যে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় (সাবেক স্থানীয় কার্যালয় শাখা) শেখ হাসিনার দুটি লকার জব্দ করে সিআইসি। ৭৫১ ও ৭৫৩ নম্বর লকার দুটি কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে জব্দ করা হয়।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেনাকল্যাণ ভবনে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখার ১২৮ নম্বর লকারটিও সিআইসি জব্দ করে।
জাতীয়
ফাইলের নিচে চাপা পড়ে পাঁচ বছর—ঝুঁকির ওপর দাঁড়িয়ে গাজীখালী ব্রীজ, হাজারো মানুষের জীবন আজ মৃত্যুফাঁদে!
মো: বজলুর রহমান, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের সটুরিয়া গ্রামের গাজীখালী নদীর উপর নির্মিত ব্রীজটি ২০২০ সালেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসক–ইউএনও–এলজিইডি—সব দপ্তরকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে সরকারি চিঠি দেওয়া হলেও ২০২৫ সালেও ব্রীজটির দুরবস্থা সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। বরং পাঁচ বছরের অবহেলায় কাঠামোটি আরও বেশি নাজুক, আরও বেশি বিপজ্জনক, আর আরও বেশি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
অথচ ২০২০ সালের সরকারি প্রতিবেদনই বলেছিল—৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রীজটি নদী খনন প্রকল্পের কারণে তীব্র স্রোতে ভিত্তিমাটি হারিয়ে ফেলে। ব্রীজের নিচে বড় গর্ত তৈরি হয়, দুই পাশের মাটি ভেঙে পড়ে এবং যেকোনো সময় পুরো কাঠামোটি নদীতে ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিদর্শন শেষে স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন—“ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজটি অপসারণ করে জরুরিভিত্তিতে নতুন ব্রীজ নির্মাণ প্রয়োজন।”
জেলা প্রশাসকও এলজিইডিকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে পত্র পাঠান।
তবে, কাগজে-কলমে সব জরুরি,
কিন্তু মাঠে বাস্তবে “জরুরি” শব্দটির অস্তিত্ব নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২০ সালের জরুরি প্রতিবেদন আজ ২০২৫ সালেও শুধু কাগজেই পড়ে আছে। কোনো টেন্ডার হয়নি, কোনো প্রস্তুতি হয়নি, কোনো পরিদর্শন হয়নি—হয়েছে শুধু “ফাইল ঘোরাঘুরি”।স্থানীয় লোকজনের ভাষায়—“এটা আর ব্রীজ না, খোলা মৃত্যুফাঁদ!”
সরজমিনের প্রকাশ্য চিত্র- শিক্ষার্থী থেকে কৃষক—সবাই ভয় নিয়ে চলাচল করছে।এই ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পারাপার হচ্ছে। অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে হাঁটতে সাহস পায় না। কৃষকরা ধান, সবজি আনার সময় দোয়া পড়ে ওঠে। মোটরসাইকেল চালকরা ব্রীজের ফাঁকে চাকা আটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বহুবার। জরুরি রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—“প্রশাসন যখন বলেছিল জরুরি, তাহলে পাঁচ বছরেও সেই জরুরি সময় কেন এল না?”
“ব্রীজ ভেঙে মানুষ মরলেই কি কাজ শুরু হবে?”প্রশাসন নীরব, দপ্তরগুলো দায় এড়ানোয় ব্যস্ত ।
ব্রীজের অবস্থা দিনদিন বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও কেউই প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নিচ্ছে না। তদারকি নেই, পদক্ষেপ নেই, বাজেট নেই—শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা।
৫ বছর ধরে সরকারি প্রতিবেদনের তাগিদ, জনগণের দাবি, ঝুঁকির সতর্কতা—কিছুই যেন প্রশাসনিক যন্ত্রকে নড়াতে পারেনি। একটি ব্রীজের অবহেলা হাজারো মানুষের জীবনের ওপর ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে প্রতিদিন।
আজ প্রশ্ন একটাই—গাজীখালী ব্রীজ কি প্রশাসনের অলসতার বলি হয়ে মানুষের মৃত্যুর অপেক্ষায় বসে আছে? নাকি সিদ্ধান্তহীনতার এই নাটকের শেষ হবে—মানুষ মরার পর?
-
জাতীয়1 week agoফাইলের নিচে চাপা পড়ে পাঁচ বছর—ঝুঁকির ওপর দাঁড়িয়ে গাজীখালী ব্রীজ, হাজারো মানুষের জীবন আজ মৃত্যুফাঁদে!
-
আন্তর্জাতিক4 days agoকারাগারে ইমরান খানকে হত্যার খবর, দেখা করতে চেয়ে হামলার শিকার ৩ বোন
-
টপ স্টোরি5 days agoবিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আদালত অবমাননার অভিযোগ
-
জাতীয়3 weeks agoকৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল ডিআরইউ
-
জাতীয়3 weeks ago৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৬৬৮
-
আন্তর্জাতিক1 week agoট্রাম্প-মামদানির সাক্ষাৎ নিয়ে শশী থারুরের পোস্ট, ‘রহস্যময়’ বলছে বিজেপি
-
জাতীয়3 weeks agoজাহানারার অভিযোগ নিয়ে যা বললেন ক্রীড়া উপদেষ্টা
-
আন্তর্জাতিক3 weeks agoআবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল উত্তর কোরিয়া


